যুক্তরাষ্ট্রে জার্মানির বিনিয়োগ কমে তিন বছরের সর্বনিম্নে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জার্মান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) জার্মানির প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির কারণে দুই আটলান্টিক পারের সহযোগীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

জার্মানভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের (আইডব্লিউ) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মানির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে ৪৩০ কোটি ইউরোয় (প্রায় ৫০০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২৩ সালের পর অর্ধবার্ষিক হিসাবে সর্বনিম্ন বিনিয়োগ।

জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এ বিনিয়োগ কমার হার প্রায় ৮০ শতাংশ। আইডব্লিউর জ্যেষ্ঠ গবেষক সামিনা সুলতান বলেন, ‘২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিনিয়োগে মন্দার এ ধারা শুরু হয়। বর্তমান পরিসংখ্যান সে পতনের ধারাবাহিকতাই বহন করছে।’

তিনি জানান, হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রধান বাণিজ্য অংশীদারকে আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কছাড় পেতে ও বাণিজ্যযুদ্ধ এড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত বছর একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় ইইউ যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারীর আগের পাঁচ বছরে (২০১৫-১৯) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথমার্ধে জার্মান কোম্পানিগুলোর গড় বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৫৮০ কোটি ইউরো। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের বিনিয়োগ মহামারী-পূর্ব সময়ের গড়ের চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

সামিনা সুলতান আরো উল্লেখ করেন, যেসব জার্মান কোম্পানি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তারা অর্জিত মুনাফা সেখানেই পুনরায় বিনিয়োগ করছে।

ব্যবসায়িক দিক থেকে মার্কিন বাজার এখনো তাদের কাছে আকর্ষণীয়।"তবে নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ও নীতির অনিশ্চয়তার কারণে এখন নতুন করে বড় অংকের মূলধন বিনিয়োগে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও